ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে তেহরানের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো সময় ইরানকে অচল করে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) কানসাস অঙ্গরাজ্যের সালিনা শহরে মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে নিজের ৩০তম ও শেষ নির্বাচনী সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ট্রাম্প। ইরান প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা চাইলে যে কোনো সময় তাদের অচল করে দিতে পারি।’ একই সঙ্গে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে ওয়াশিংটন সংযম দেখাচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ভালো আচরণ করার চেষ্টা করছি। কখনো কখনো এমনটা করার প্রয়োজন হয় না। আমরা কিছুটা ভালো থাকার চেষ্টা করছি। তবে আমার মনে হয়, বিষয়টি খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আমরা শুধু তাদের অচল করে দেব। তাতেই সবকিছুর অবসান ঘটবে।’
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও ‘অচল করে দেওয়া’ বলতে তিনি ঠিক কী বুঝিয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। সম্ভাব্য সামরিক অভিযান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও জানাননি তিনি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নতুন কোনো সামরিক অভিযান বা নীতিগত সিদ্ধান্তের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সরাসরি ও কঠোর ভাষার বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।